কোনো কোনো যুবক যুবতী – পূর্ণেন্দু পত্রী— হে সময় অশ্বারোহী হও একালের কোনো কোনো যুবক বা যুবতীর মুখে সেকালের মোমমাখা ঝাড়লন্ঠন স্তম্ভ ও গম্বুজ দেখা যায়। দেখে হিংসা জাগে। মানুষ এখন যেন কোনো এক বড় উনোনের ভাত-ডাল-তরকারির তলপেটে ডাইনীর চুলের আগুনকে অহরহ জ্বালিয়ে রাখার চেলা কাঠ, কাঠ-কয়লা-ঘুটে। মানুষ এখন তার আগেকার মানুষ-জন্মের কবচ, কুণ্ডল,…

যাও চলে দখিন হাওয়া – ধূর্জটি চন্দ ফিরলে কেন? যাও চলে যাও। ছায়া তোমার সয় না তোমা আছে প্রণয়-খিদে রোদ্দুরে ভয় হয় না। তোমার আছে গাইতি-শাবল, রক্তপাতের সঙ্গী বিপন্নতায় মলম ভাষ্য সলাজ ভুরু ভঙ্গি। তোমার অমন স্তাবকতায় আমার কিছু হয় না চিনতে আমি ভুল করিনি দাঁড়ের পাখি ময়না। তোমার আছে নদীর উজান, বকুল বাগান আস্ত…

কাদম্বরী –দেবেশ ঠাকুর তোমার শরীরের ময়নাতদন্ত করতে দেননি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ – তোমার জাঁদরেল শ্বশুরমশাই পাছে কাটা ছেড়া করলে সত্যটা বেরিয়ে পড়ে- বেরিয়ে পড়ে ঠাকুরবাড়ির সবচেয়ে উপেক্ষিতা নারী আর উপেক্ষিত পুরুষটির ভালবাসার হৃদয়পদ্ম! ঠাকুরবাড়ির বাজার সরকারের মেয়ে বংশ, সম্মান, গাঁই, গোত্র, কৌলীন্য-কিছুতেই মেলে না বিশেষতঃ জ্যোতিরিন্দ্রনাথের মত অসামান্য নতুন পুরুষটির সঙ্গে লজ্জায় বাড়ি আলোকপ্রাপ্তা জ্ঞানদানন্দিনী তুমি…

‘‘ মায়ের কাছে চিঠি ’’ —তসলিমা নাসরিন কেমন আছ তুমি? কতদিন, কত সহস্র দিন তোমাকে দেখি না মা, কত সহস্র দিন তোমার কন্ঠ শুনি না, কত সহস্র দিন কোনো স্পর্শ নেই তোমার। তুমি ছিলে, কখনও বুঝিনি ছিলে। যেন তুমি থাকবেই, যতদিন আমি থাকি ততদিন তুমি- যেন এরকমই কথা ছিল। আমার সব ইচ্ছে মেটাতে যাদুকরের মত।…

প্রভু, নষ্ট হয়ে যাই – শক্তি চট্টোপাধ্যায়– বার বার নষ্ট হয়ে যাই প্রভু, তুমি আমাকে পবিত্র করো, যাতে লোকে খাঁচাটাই কেনে, প্রভু নষ্ট হয়ে যাই বার বার নষ্ট হয়ে যাই একবার আমাকে পবিত্র করো প্রভু,  যদি বাঁচাটাই মুখ্য, প্রভু, নষ্ট হয়ে যাই ।

অভিশাপ – তসলিমা নাসরিন— প্রেম আমাকে একেকবারে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে, আমি আর আমি নেই, আমাকে আমি আর চিনতে পারি না, আমার শরীরটাকে পারি না, মনটাকে পারি না। হাঁটাচলাগুলোকে পারি না, দৃষ্টিগুলোকে পারি না, কী রকম যেন অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছি, বন্ধুদের আড্ডায় যখন হাসা উচিত আমি হাসছি না, যখন দুঃখ করা উচিত, করছি না।…

প্রভেদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তোমাতে আমাতে আছে তো প্রভেদ জানি তা বন্ধু, জানি, বিচ্ছেদ তবু অন্তরে নাহি মানি। এক জ্যোৎস্নায় জেগেছি দুজনে সারারাত-জাগা পাখির কূজনে, একই বসন্তে দোঁহাকার মনে দিয়েছে আপন বাণী। তুমি চেয়ে আছ আলোকের পানে, পশ্চাতে মোর মুখ– অন্তরে তবু গোপন মিলনসুখ। প্রবল প্রবাহে যৌবনবান ভাসায়েছে দুটি দোলায়িত প্রাণ, নিমেষে দোঁহারে করেছে সমান একই…

এ কেমন ভ্রান্তি আমার ____ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ এ কেমন ভ্রান্তি আমার ! এলে মনে হয় দূরে স’রে আছো, বহুদূরে, দূরত্বের পরিধি ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে আকাশ। এলে মনে হয় অন্যরকম জল হাওয়া, প্রকৃতি, অন্য ভূগোল, বিষুবরেখারা সব অন্য অর্থবহ- তুমি এলে মনে হয় আকাশে জলের ঘ্রান। হাত রাখলেই মনে হয় স্পর্শহীন করতল রেখেছো চুলে, স্নেহ-…

মা ভাগ হয় না – বেণু দত্তরায় পাসপোর্ট ও ভিসার বাইরে দাঁড়িয়ে আছি আমার চোখে কোনো জল নেই মাটি ভাগ হয় মা ভাগ হয় না                        এ সত্য জেনেছি আমার জন্মদায়িনী মা সুখ-দুঃখের শেতলপাটিতে বসে থাকে খালে-বিলে ফুটে থাকে সাপলা-শালুক মৌটুসি পাখির ঝাঁক আকাশে ওড়ে ছাতিমতলার পুকুরে বৌডুবির খালে আমাদের কথা-কিংবদন্তি জড়িয়ে থাকে                           অবিনাশী…

অমলিন পরিচয় – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সেই থেকে মনে আছে— কপালের ডান পাশে কালো জন্ম-জরুল, চুলের গন্ধে নেমে আসা দেবদারু-রাতে কতোটা বিভোর হতে পারে উদাস আঙুল, সেই প্রথম অভিজ্ঞতা, সেই প্রথম ভুল। অথবা ভুলের নামে বেড়ে ওঠা সেই প্রেম, সেই পরিচয়, আমি তাকে নিঃসঙ্গতা বলি। তুমি কি পাখির মতো আজো সেই স্মৃতিদের খড় চঞ্চুতে তুলে…

আনন্দময়ীর আগমনে – কাজী নজরুল ইসলাম _____________________________ আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল? স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল। দেব –শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসি, ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী? মাদীগুলোর আদি দোষ ঐ অহিংসা বোল নাকি-নাকি খাঁড়ায় কেটে কর মা বিনাশ নপুংসকের প্রেমের ফাঁকি। ঢাল তরবার, আন…